বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভারতের S-400 মোতায়েন, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?

বাংলাদেশ ডেস্ক | ZAPZAB

বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা S-400 মোতায়েন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও। দাবি করা হচ্ছে, ভারতের আসাম রাজ্যের তেজপুর বিমানঘাঁটির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক S-400 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ইউনিট। তবে ভিডিওটির সুনির্দিষ্ট স্থান, ধারণের সময় এবং এতে থাকা সামরিক সরঞ্জামটি S-400 কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।

রাশিয়ার S-400 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী?

রাশিয়ার তৈরি S-400 বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি। এটি যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং নির্দিষ্ট ধরনের ব্যালিস্টিক মিসাইল শনাক্ত ও প্রতিহত করতে সক্ষম।

ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন অনুযায়ী এই ব্যবস্থার কার্যকর পাল্লা ভিন্ন হয়। তবে উপযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে।

একটি পূর্ণাঙ্গ S-400 ইউনিটে থাকে শক্তিশালী রাডার, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী যান এবং বিভিন্ন সহায়ক সরঞ্জাম। এসব উপাদান সমন্বিতভাবে আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলায় কাজ করে।

আসামের তেজপুরে S-400 মোতায়েনের দাবি কতটা সত্য?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের আসাম রাজ্যের তেজপুর বিমানঘাঁটির দিকে S-400-এর মতো একটি সামরিক ব্যবস্থা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এমন দাবি সামনে এসেছে।

তবে ভিডিওটির প্রকৃত অবস্থান, ধারণের সময় এবং এতে দেখানো সামরিক সরঞ্জামের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে ভিডিওটি S-400 মোতায়েনের নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। তাই তেজপুরে নতুন করে S-400 মোতায়েন করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

S-400 কিনতে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের চুক্তি

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পাঁচটি S-400 রেজিমেন্ট কেনার চুক্তি করে ভারত। চুক্তিটির মূল্য ছিল প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম তিনটি ইউনিট ভারতে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের জুনে চতুর্থ ইউনিট ভারতে পৌঁছানোর খবরও প্রকাশিত হয়। পঞ্চম ও শেষ ইউনিটটি ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করার কথা জানিয়েছে রাশিয়া।

এ হিসাবে মূল চুক্তির পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চারটি ভারতে পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে এবং বাকি ইউনিটটির সরবরাহের সময়সীমা নভেম্বর ২০২৬ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পাঁচটি S-400 কেনার পরিকল্পনা ভারতের

ইন্ডিয়া টুডের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান চুক্তির বাইরে আরও পাঁচটি S-400 কেনার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। এ জন্য ৫০ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের একটি প্রস্তাবের কথা ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

তবে অতিরিক্ত পাঁচটি S-400 কেনার চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ভারতের জন্য S-400 কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের ভৌগোলিক অবস্থান দেশটির প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশটির পশ্চিমে পাকিস্তান এবং উত্তর ও পূর্বে চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

S-400-এর মতো ব্যবস্থা দূর থেকে আসা বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি শনাক্ত এবং প্রতিহত করার সক্ষমতা রাখে। ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় এই ব্যবস্থার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

ভারতের পূর্বাঞ্চলে S-400-এর উপস্থিতি নিয়ে এর আগেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০২২ সালে ভারতীয় সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আসাম সেক্টরে S-400 কার্যকর করার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তাই আসাম অঞ্চলে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপস্থিতির বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন নয়।

শেষ কথা

বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি ভারতের S-400 মোতায়েন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির অবস্থান, সময় এবং সামরিক সরঞ্জামের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় তেজপুরে নতুন কোনো S-400 ইউনিট মোতায়েনের দাবি এখনো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের পাঁচটি S-400 রেজিমেন্ট কেনার চুক্তি এবং পূর্বাঞ্চলে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আগের প্রকাশিত তথ্য থেকে বোঝা যায়, ভারতের সামরিক কৌশলে S-400 গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে যাচাই করা তথ্য ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করা জরুরি।