ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের নতুন উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যে কি বড় সংঘাতের আশঙ্কা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ZAPZAB
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত এবং বিভিন্ন দেশের অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও কি বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে?

ইরানের সামরিক প্রস্তুতি

দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা দেশটির ওপর বড় ধরনের আক্রমণ চালাতে পারে। এ কারণে ইরানের বিভিন্ন সামরিক বাহিনীকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত এবং যেকোনো আক্রমণের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানের সেনারা বিভিন্ন সেক্টরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ভারী অস্ত্র, কামান, রকেট লঞ্চার, মিসাইল লঞ্চার ও ড্রোন লঞ্চারসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে অবস্থান করছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা

দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও প্রতিবেশী বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক শক্তি মধ্যপ্রাচ্যে আনা হচ্ছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

মার্কিন বোম্বারগুলো মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের যুদ্ধ প্রস্তুতি বেড়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে লেখাটিতে বলা হয়েছে।

তাদের দ্রুত দেশ ত্যাগের পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ভিন্ন বার্তা

দেওয়া তথ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের মধ্যেও ভিন্নতা তুলে ধরা হয়েছে।

কখনো তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ভালো কোনো খবর আসতে পারে। আবার কখনো ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণের কথাও বলেছেন।

অর্থাৎ একদিকে যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনার সম্ভাবনাও সামনে রয়েছে।

ইরানের সম্ভাব্য নতুন অস্ত্র নিয়ে আলোচনা

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশটি এমন কিছু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে যা আগে দেখা যায়নি।

তবে এই অস্ত্র আসলে কী, সে বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে লেখাটিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণের সম্ভাব্য ধারণা হিসেবে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, উন্নত ড্রোন, হাইপারসোনিক ও সুপারসোনিক মিসাইল ব্যবহারের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া ইরানের কাছে এমন কিছু মিসাইলের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে, যেগুলোর সক্ষমতা এখনো তাদের প্রতিপক্ষের কাছে পুরোপুরি জানা নেই বলেও দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হতে পারে সম্ভাব্য লক্ষ্য

ইরানের সম্ভাব্য হামলার অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্র অঞ্চলে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, রণতরী ও ডেস্ট্রয়ারগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ইরান হাইপারসোনিক মিসাইল ব্যবহার করে সমুদ্র অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদকে লক্ষ্য করতে পারে।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে বলে লেখাটিতে উল্লেখ রয়েছে।

ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহারের সম্ভাবনা

ইরান এবার একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করতে পারে বলেও দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে।

এসব ড্রোন আগের ব্যবহৃত ড্রোনের তুলনায় আরও উন্নত হতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের মিসাইল বহনের সক্ষমতা থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

পাশাপাশি ইরানের কাছে থাকা আরও কিছু মিসাইল, যেগুলো এখনো যুদ্ধে ব্যবহার করা হয়নি, সেগুলোও ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দেওয়া তথ্যে যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে গেছে।

লেখাটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের কারণে বিভিন্ন দেশের জাহাজ ওই অঞ্চলে চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করছে।

একই সময়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোও নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে আরব সাগর, ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেন ও সৌদি আরবের সংঘাত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার পাশাপাশি ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যেও হামলা-পাল্টা হামলার পরিস্থিতি চলছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের হুতিদের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সৌদি আরবের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলেও লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।

হুতিদের বিভিন্ন ধরনের মিসাইল ব্যবহারের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পপাল্লার, মধ্যপাল্লার এবং দূরপাল্লার মিসাইলের কথা বলা হয়েছে।

ইয়েমেনের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হামলার দাবি এবং বিভিন্ন অঞ্চলে দখল ও পাল্টা দখলের কথাও দেওয়া তথ্যে রয়েছে।

সৌদির পাশে কয়েকটি দেশের অবস্থান

দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পাশে তুরস্ক, জর্ডান ও কাতারের অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।

তারা সৌদি আরবকে সহায়তা করতে প্রস্তুত হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তুরস্কের কিছু মাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তুরস্কের উদ্দেশ্য সৌদি আরবকে ইসরাইলের প্রভাব থেকে দূরে রাখা এবং প্রয়োজনে মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনাও চলছে

যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নেপথ্যে আলোচনা চলছে বলেও দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

একদিকে সামরিক প্রস্তুতি বাড়ছে, অন্যদিকে আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে।

এ কারণে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যাবে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

সামনে কী হতে পারে?

দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে একই সঙ্গে দুটি বিপরীত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার কথাও সামনে আসছে।

ইরান বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও সামরিক প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য আক্রমণের বিভিন্ন বার্তা আসছে।

ফলে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের দিকে যাবে, নাকি কোনো মধ্যস্থতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইয়েমেন, সৌদি আরব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে দেওয়া তথ্যের সামগ্রিক চিত্রে উঠে এসেছে।


ইরান, আমেরিকা, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য, ইয়েমেন, সৌদি আরব, ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরান মিসাইল, ইরানের সামরিক শক্তি, হরমুজ প্রণালী, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, যুদ্ধের প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক খবর