বিশ্বকাপের ব্যর্থতা কাটিয়ে নতুন রূপে ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র
অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে শুরুটা অবশ্য ব্রাজিলের জন্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। তবে ম্যাচ যত গড়িয়েছে, ততই নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আক্রমণে ফিরেছে সেলেসাওরা। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
শুরুতেই চাপে ব্রাজিল
ম্যাচের শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ইতালিয়ানোর পাস থেকে মেডকাফ শট নেন। তবে তার সেই শট গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
শুরুর কিছু সময় ব্রাজিলকে বেশ চাপে রাখে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের তখন নিজেদের ডিফেন্স সামলাতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।
তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ব্রাজিল। রাফিনিয়া, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, এনরিক ও এস্তেবাওকে ঘিরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ ধীরে ধীরে নিজেদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করে।
ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণ
ব্রাজিলের আক্রমণ বাড়তে থাকলে গোলের সুযোগও তৈরি হতে থাকে। ব্রুনো গিমারেসের একটি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ।
এর মাত্র দুই মিনিট পর এনরিকের নেওয়া শটও অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন অজি গোলরক্ষক। এরপর আরও কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও কোনো দলই গোলের দেখা পাচ্ছিল না।
এস্তেবাওর গোল বাতিল
প্রথমার্ধের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। ডিফেন্সের জটলা থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশ করেন ব্রাজিলের তরুণ প্রতিভা এস্তেবাও।
ডান পায়ের দারুণ শটে অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষকের কোনো জবাব ছিল না। কিন্তু গোলের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ব্রাজিলের জন্য।
হ্যারিস ওত্তারের কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার সময় ব্রাজিলের এক খেলোয়াড় ফাউল করেছিলেন। সেই প্লে থেকেই গোল হওয়ায় ভিএআর পর্যালোচনার পর এস্তেবাওর গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ফলে আবারও স্কোরলাইন দাঁড়ায় ০-০।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া ব্রাজিল
বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন এস্তেবাও। তবে সেই প্রচেষ্টায় সফল হননি তিনি।
এরপর ম্যাচের অন্যতম সহজ সুযোগ পান রাফিনিয়া। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বেশ ফাঁকায় বল পেলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।
বল নিয়ে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার সময় পাশে ফাঁকায় সতীর্থরা থাকলেও তাদের পাস না দিয়ে নিজেই শট নেন রাফিনিয়া। কিন্তু সেই শট থেকেও গোলের দেখা পায়নি ব্রাজিল।
কিছু সময় পর ডি-বক্সের ভেতর আরও একটি সহজ সুযোগ পান এস্তেবাও। কিন্তু তার শট চলে যায় গোলপোস্টের বাইরে।
সেটপিস থেকে অস্ট্রেলিয়ার গোল
ব্রাজিল যখন একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করছিল, তখন সেটপিস থেকে গোলের দেখা পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে নেস্তের ইরান কুন্দার ফ্রি-কিক থেকে গোল করে স্বাগতিকরা। এর ফলে ম্যাচে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
গোল হজম করার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণ করেও অবশ্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গোলের দেখা পাচ্ছিল না সেলেসাওরা।
শেষ মুহূর্তে রাফিনিয়ার কর্নার থেকে সমতা
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় ব্রাজিল। রাফিনিয়ার নেওয়া কর্নার থেকে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন রায়ান।
এই গোলে ম্যাচের স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল।
বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন কৌশলে মাঠে নামা ব্রাজিলের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল নতুন যাত্রার শুরু। ম্যাচে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও জয় পায়নি সেলেসাওরা। শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়িয়ে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিল বনাম অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ, Brazil vs Australia, Brazil Football, Brazil Match, অস্ট্রেলিয়া বনাম ব্রাজিল, ব্রাজিল ফুটবল, কার্লো আনচেলত্তি, রাফিনিয়া, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, এস্তেবাও, ব্রুনো গিমারেস, ব্রাজিল নিউজ, ফুটবল নিউজ, Brazil Football News, Brazil vs Australia 1-1, Raphinha, Vinicius Junior, Carlo Ancelotti

মতামত জানান: