বাব আল-মানদেব কি হুতিদের দখলে? ইয়েমেন, হুতি ও সৌদি আরবের সংঘাতের নেপথ্যের বাস্তবতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ZAPZAB

                                

মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইয়েমেনের উত্তরের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে আসা হুতিরা কী সত্যিই বাব আল-মানদেব প্রণালীর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে—এমন প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

বাব আল-মানদেব একটি সরু সমুদ্রপ্রণালী। এর প্রস্থ প্রায় ২৮ কিলোমিটার এবং এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ চলাচল করে বলে দেওয়া তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য পরিবর্তনও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে আলোচিত দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে। কারণ বাব আল-মানদেবের একটি তীর ইয়েমেনে হলেও অন্য তীর আফ্রিকার দিকে। ফলে ইয়েমেন বা হুতিদের পক্ষে পুরো প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি সরাসরি করা যায় না।

বাব আল-মানদেব কি পুরোপুরি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে?

সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের সামরিক অগ্রগতি অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর হুতিরা পশ্চিমে তাইজ এবং দক্ষিণে হোদেদায় আক্রমণ শুরু করে। ১০ সেপ্টেম্বর সরকারপন্থী বাহিনী মোখা, হায়েস ও আল খাওখা থেকে দক্ষিণে সরে আসে। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর হুতিরা ধুবাব আল পেরিম দ্বীপে পৌঁছায়।

এর ফলে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা প্রায় ২,৬০০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বাব আল-মানদেবের পুরো নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে গেছে।

কারণ প্রণালীর পশ্চিম তীর ইয়েমেনের বাইরে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন সামরিক বিশ্লেষকও বলেছেন—মোখা, ধুবাব ও পেরিম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শুধু এর ভিত্তিতে পুরো বাব আল-মানদেব নিয়ন্ত্রণের দাবি করা যায় না।

হুতিরা এই পথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা আর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ—এই দুটি বিষয় এক নয়।

কেন বাব আল-মানদেব এত গুরুত্বপূর্ণ?

বাব আল-মানদেবকে আরবিতে ‘কান্নার দরজা’ বলা হয়েছে। এই সমুদ্রপথ আরব উপদ্বীপ ও আফ্রিকার মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ।

দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব যদি ১০০ একক ধরা হয়, তাহলে বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব অন্তত ৬০ একক।

চীন থেকে ইউরোপগামী কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার না করে আফ্রিকা ঘুরে গেলে সময় ও জ্বালানি ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। আফ্রিকা ঘুরে যেতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় লাগতে পারে বলেও দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই কারণে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১৫ শতাংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে বলে তথ্যটিতে দাবি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিদিন প্রায় ৮১ লাখ ব্যারেল তেল এই সরু প্রণালী দিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়েমেনের ইতিহাস: যুদ্ধের আগের এক সমৃদ্ধ ভূখণ্ড

বর্তমানে ইয়েমেনের নাম শুনলে যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও মানবিক সংকটের কথা সামনে আসে। কিন্তু ইসলামের ইতিহাস ও প্রাচীন ইতিহাসে ইয়েমেনের পরিচয় ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

প্রাচীন রোমানরা আরব উপদ্বীপকে তিন ভাগে ভাগ করত। দক্ষিণাঞ্চলকে তারা ‘আরাবিয়া ফেলিক্স’ নামে অভিহিত করত, যার অর্থ সুখী বা সমৃদ্ধ আরব।

এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতো, পাহাড়ের ঢালে কৃষিকাজ হতো এবং লোবান ও গন্ধরসের মতো মূল্যবান সুগন্ধি উৎপাদিত হতো। রোম, মিশর ও ভারতসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে ইয়েমেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল।

কোরআনে সাবা ও মারিবের প্রসঙ্গ

ইয়েমেনের ইতিহাসের সঙ্গে সাবা রাজ্যের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোরআনে সাবা গোত্রের কথা এসেছে। হুদহুদ পাখির মাধ্যমে সুলাইমান (আ.) সাবার রানীর খবর জানতে পারেন।

সাবা রাজ্যের সঙ্গে বর্তমান ইয়েমেনের মারিব শহরের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সূরা সাবায় সাবার মানুষের জন্য দুই পাশে দুই বাগানের কথা বলা হয়েছে। তাদের আল্লাহর দেওয়া রিজিক ভোগ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে বাঁধ ভেঙে বন্যার ঘটনা ঘটে এবং ইয়েমেনের বিভিন্ন গোত্র ছড়িয়ে পড়ে।

এই গোত্রগুলোর একটি অংশ উত্তরে গিয়ে ইয়াসরিবে বসতি স্থাপন করে। পরবর্তীতে এই ইয়াসরিবই মদিনা হিসেবে পরিচিত হয় এবং আউস ও খাজরাজ গোত্র থেকে আনসারদের আবির্ভাব ঘটে।

ইসলামের ইতিহাসে ইয়েমেনের বিশেষ অবস্থান

দেওয়া তথ্যে ইয়েমেনের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইয়েমেনের মানুষদের কোমল হৃদয়ের বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, ‘ঈমান ইয়েমেনী এবং প্রজ্ঞা ইয়ামেনী।’

পারস্যের সম্রাটের নির্দেশে ইয়েমেনের গভর্নর বাজান রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসেছিলেন। পরে বাজান ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তার সঙ্গে তার এলাকার মানুষও ইসলাম গ্রহণ করে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) ও আলী ইবনে আবু তালিব (রা.)-কেও ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছিল।

এছাড়া আবু মুসা আল-আশআরি (রা.), আবু হুরায়রা (রা.) এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.)-এর পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গেও ইয়েমেনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

হুতিরা কারা?

হুতিদের ইতিহাস বুঝতে হলে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের জায়েদি সম্প্রদায়ের ইতিহাস বুঝতে হয়।

দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, জায়েদিরা শিয়াদের একটি শাখা হলেও ইরানের মূলধারার শিয়াদের সঙ্গে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। জায়েদিরা পাঁচ ইমাম পর্যন্ত বিশ্বাস করে এবং তাদের কিছু ধর্মীয় অনুশীলন সুন্নি ইসলামের কাছাকাছি।

উত্তর ইয়েমেনে প্রায় এক হাজার বছর ধরে জায়েদিদের নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থা ছিল। ১৯৬২ সালে মিশরের সমর্থনে একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই শাসনের অবসান ঘটে এবং ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের পথে যায়।

এরপর উত্তর ইয়েমেনের জায়েদি অধ্যুষিত অঞ্চলে উন্নয়ন না হওয়া, সৌদি আরবের মাদ্রাসা কার্যক্রম এবং নিজেদের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পরিচয় হারানোর আশঙ্কা—এই বিষয়গুলো থেকে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘বিশ্বাসী যুবকদের দল’ থেকে হুতি আন্দোলন

১৯৯০-এর দশকের পর সেই ক্ষোভ থেকে ‘আশ-শাবাব আল-মুমিন’ বা ‘বিশ্বাসী যুবকদের দল’ গড়ে ওঠে। এর নেতৃত্বে ছিল আল-হুতি পরিবার।

এই পরিবারের হোসাইন বদরুদ্দিন আল-হুতি ছিলেন প্রভাবশালী বক্তা এবং সংসদ সদস্য। পরবর্তীতে তার নাম থেকেই আন্দোলনটি ‘হুতি’ নামে পরিচিত হয়।

২০০১ সালে আফগানিস্তানে এবং ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে। হুতি নেতৃত্ব সেই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ডাক দেয়।

২০০৪ সালের সংঘর্ষ ও হুতিদের উত্থান

২০০৪ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ হুতি নেতৃত্বকে দমন করতে সেনাবাহিনী পাঠান। প্রায় তিন মাসের সংঘর্ষের পর হোসাইন হুতি নিহত হন।

কিন্তু তার মৃত্যুর পর আন্দোলন থেমে যায়নি। তার ভাই আব্দুল মালিক আল-হুতি নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে প্রেসিডেন্ট সালেহ ছয়বার হুতি নেতৃত্বকে দমন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিবারই তারা টিকে যায়।

পাহাড় ও গুহার মধ্যে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ করার ফলে হুতিরা গেরিলা যুদ্ধের কৌশলে দক্ষ হয়ে ওঠে।

২০১৪ সালে সানা দখল

২০১১ সালের আরব বসন্তের সময় ইয়েমেনেও বড় আন্দোলন শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট সালেহ ক্ষমতা ছাড়েন এবং আব্দুর রাব্বু মানসুর হাদি ক্ষমতায় আসেন।

২০১৪ সালে জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের পর দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেলে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে হুতিরা রাজধানী সানার দিকে অগ্রসর হয়।

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালে সানা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

দেওয়া বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এখানে বড় ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যায়। এ থেকেই একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে হুতিদের সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো?

হুতি মানেই ইরানের সরাসরি পুতুল—এমন সরল ব্যাখ্যা সঠিক নয় বলে দেওয়া তথ্যে দাবি করা হয়েছে।

হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক শুরু থেকেই গভীর ছিল না। ২০১৪-১৫ সালের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়। সানা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর ইরান তাদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে।

দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ইরান হুতিদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র এবং বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে। তবে তাদের রাডার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা বিমানবাহিনী দেওয়া হয়নি।

অর্থাৎ আক্রমণ করার সক্ষমতা বাড়লেও নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা সীমিত ছিল।

সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত

২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ শুরু করে। এরপর ইয়েমেনকে ঘিরে সৌদি আরব ও হুতিদের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়।

তবে দেওয়া বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর সৌদি আরবের কৌশলে পরিবর্তন আসে। ২০২২ সালের পর সৌদি আরব স্থলযুদ্ধ থেকে অনেকটা সরে গিয়ে বিমান শক্তির মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের কৌশল নেয়।

তথ্যটিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব পরাজিত হয়েছে—এমন সরল সিদ্ধান্তে যাওয়ার পরিবর্তে দেশটির কৌশল পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের

সৌদি আরব ও হুতিদের দীর্ঘ সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ।

দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, যুদ্ধে দেড় লাখের বেশি মানুষ মারা গেছে। ২০১৬-১৭ সালে ইয়েমেনে ভয়াবহ কলেরা মহামারি ছড়িয়ে পড়ে এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়।

বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক মানুষ ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল বলে তথ্যটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

একসময় যে ইয়েমেনকে সমৃদ্ধ আরব হিসেবে দেখা হতো, সেই দেশ আজ যুদ্ধ, ক্ষুধা ও মানবিক সংকটে আক্রান্ত।

বাব আল-মানদেব নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তারা তাইজ, হোদেদা, মোখা, ধুবাব এবং পেরিমের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

কিন্তু এসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ পাওয়া মানেই পুরো বাব আল-মানদেব প্রণালী দখল করা নয়।

কারণ প্রণালীর অপর পাশ জিবুতি। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের মতো শক্তিশালী দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে বাব আল-মানদেবকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করার ক্ষেত্রে শুধু ইয়েমেনের তীরের কয়েকটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়।

শেষ কথা

বাব আল-মানদেবের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে শুধু ‘হুতিরা প্রণালী দখল করে নিয়েছে’—এই একটি বাক্যে ব্যাখ্যা করা কঠিন।

হুতিদের সামরিক অগ্রগতি হয়েছে এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। কিন্তু পুরো বাব আল-মানদেবের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে গেছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ইয়েমেনের দীর্ঘ ইতিহাস, জায়েদি সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক উত্থান, হুতি আন্দোলনের জন্ম, ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং সৌদি আরবের কৌশলগত পরিবর্তন—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করলেই বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতা বোঝা যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই দীর্ঘ সংঘাতের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষকে। একসময় সমৃদ্ধির প্রতীক ইয়েমেন আজ যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে আক্রান্ত—এটাই এই দীর্ঘ সংঘাতের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।


ইয়েমেন, হুতি, বাব আল-মানদেব, সৌদি আরব, ইরান, ইরান-সৌদি সম্পর্ক, হুতি বিদ্রোহী, ইয়েমেন যুদ্ধ, বাব আল-মানদেব প্রণালী, মধ্যপ্রাচ্য, লোহিত সাগর, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ২০২৬, সৌদি আরব যুদ্ধ, হুতি বাহিনী