ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের তীব্র সংঘাত, ২৪ ঘণ্টায় ২৬ বিমান হামলা
এরই ধারাবাহিকতায় ইয়েমেনে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি তীব্র বিমান হামলা চালানোর তথ্য সামনে এসেছে। এসব হামলা ও পাল্টাপাল্টি সংঘাতের ফলে ইয়েমেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় ২৬ বিমান হামলার দাবি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের তাইজ, মারিব ও হাজ্জা প্রদেশকে লক্ষ্য করে সৌদি আরবের বিমান হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে এফ-১৫ এবং টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, গত এক সপ্তাহে তাঁদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরবের হামলার সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে।
প্রদত্ত তথ্যে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি এই দাবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সংঘাতে ৬৮ জন নিহতের দাবি
চলমান সংঘাতের গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন:
- সৌদি বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর ৪০ জন যোদ্ধা।
- ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের ২৩ জন সেনা।
- সৌদির তায়েফ শহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে নিহত ১ জন বেসামরিক নাগরিক।
- ইয়েমেনে নিহত ৩ শিশু।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনার বিবরণ সংশ্লিষ্ট দাবির ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।
জ্বালানি অবকাঠামো ও বাণিজ্যপথ ঘিরে উত্তেজনা
২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সংঘাতের নতুন করে অবনতির কথা বলা হয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এর অন্যতম কারণ লোহিত সাগরের কৌশলগত সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন করে বাস্তুচ্যুত এক লাখেরও বেশি মানুষ
প্রদত্ত তথ্যে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, বসতবাড়ি এবং জীবনযাত্রা নিয়ে উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওমানে জরুরি বৈঠক, যুদ্ধবিরতির লক্ষণ নেই
চলমান উত্তেজনা কমাতে ওমানের মাসকাটে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এখনো কোনো যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা আরও বড় হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর এর প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে।

মতামত জানান: